মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
নরসিংদীতে সাড়া জাগিয়েছে ‘করিমপুর প্রবাসী ঐক্য ফোরামের’ উদ্যোগে খাজনামুক্ত কোরবানির পশুর হাট নরসিংদীতে জনসেবায় জীবন উৎসর্গ করলেও শেষ বিদায় হলো ‘প্রাচীরবন্দী’ হয়ে! মাধবদীর পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীদের ওপর পৌরসভার কতিপয় লোকের ‘হুমকি-ধামকি ও বৈষম্যের’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত মাধবদীর কাঁঠালিয়ায় টিকটক করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল কিশোরীর শান্ত চরমধুয়াকে অশান্ত করে তোলার নেপথ্যের কারিগর কে?? নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে সরকারী আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী রিক্রুটিং লাইসেন্স ওর্নাস এসোসিয়েশনের মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  মাধবদী ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আলোচনা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নরসিংদীতে তরুণদের প্রযুক্তি উৎসব: আইসিটি অলিম্পিয়াড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

মো. আল-আমিন সরকার / ১০৫ পাঠক
প্রকাশকাল মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

সকালের সূর্য তখনও পুরোপুরি মাথা তুলেনি। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে ভিড় জমতে শুরু করেছে শত শত শিক্ষার্থী। কারও চোখে উৎসাহ, কারও মনে স্বপ্ন—আজকের দিনটিই বদলে দিতে পারে তাদের ভবিষ্যৎ। রঙিন টি-শার্টে স্বেচ্ছাসেবীরা দৌড়ঝাঁপ করছে চারপাশে। ঠিক যেন এক উৎসবের আমেজ—এটাই ছিল আইসিটি অলিম্পিয়াড নরসিংদী ২০২৫।

গত ২৩ আগস্ট শনিবার, নরসিংদী আইসিটি ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী। পাশে ছিলেন ৫০০ অভিভাবক, আর দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী। সব মিলিয়ে ড্রিম হলিডে পার্ক যেন রূপ নেয় প্রযুক্তির এক রঙিন আঙিনায়।

শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য, হাসি-খুশি মুখ আর প্রতিযোগিতার আবেগে সেদিন ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ল্যাপটপ, ট্যাব ও মোবাইল ফোন। তবে শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তরাই নয়, সবার চোখেই আনন্দ—কারণ, আসল বিজয়ী ছিল নরসিংদীর তরুণ প্রজন্ম, যারা আগামী দিনের প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বুনছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, উপদেষ্টা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ফয়েজ আহমেদ তাইয়েব, আইসিটি উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহবায়ক, এনসিপি;  ইঞ্জিনিয়ার মো. মফিজুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা, মর্নিং সান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ  প্রমুখ। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মাহবুবুর রহমান মনির, পরিচালক, নদী বাংলা গ্রুপ ও আহ্বায়ক নরসিংদী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফোরাম।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বলছিল নিজেদের স্বপ্নের কথা। বিজয়ী এক তরুণ উচ্ছ্বাস ভরে জানালেন, “আজকের এই প্রতিযোগিতা আমাকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে আরও দৃঢ় করেছে।”
একজন অভিভাবক আবেগ নিয়ে বললেন, “আমাদের সন্তানরা যদি এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে, তবে তারা গেমস নয়, আসল প্রযুক্তি শেখার পথে এগিয়ে যাবে।”

আয়োজকদের পক্ষে নাঈম ইসলাম বলেন, এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং তরুণদের মেধা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্ব গড়ার এক বড় সুযোগ। এসময় তিনি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীদেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, “আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা হলো সত্যিকারের হিরো, যাদের প্রচেষ্টা ছাড়া এমন আয়োজন সম্ভব ছিল না।”

দিনশেষে আলোকসজ্জায় ভেসে ওঠা ড্রিম হলিডে পার্কে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা যখন ছবি তুলছিল, তখনই স্পষ্ট হচ্ছিল—এ আয়োজন শুধু একটি দিনের স্মৃতি নয়, বরং আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে এক সাহসী পদক্ষেপ।