শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
🔻একটি জনপদের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়—এটি গড়ে ওঠে শিক্ষা, মানবিকতা, সততা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয়ে। সেই সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. মফিজুল ইসলাম। শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য, শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং মানবিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে তিনি আজ মাধবদী পৌরসভার সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দুর্জয় টোয়েন্টিফোরের সাথে দীর্ঘ আলোচনায় ওঠে এসেছে তার জীবনের পুরো বৃত্তান্ত –
ছাত্রজীবন থেকে রাজপথে:
জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মফিজুল ইসলামের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর বালুসাইর খাল খনন কর্মসূচিতে স্কাউট টিমের দায়িত্ব পালন ছিল তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার সূচনা। কলেজ জীবনে ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করেন। পরে মাধবদী পৌরসভা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান।
এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং “March for Democracy”সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি ছিল তাঁর। তিনি নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন–এর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা ও পেশাগত ভিত্তি:
১৯৮১ সালে মাধবদী এসপি ইনস্টিটিউশন থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৮৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮৬/৮৭ শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান তাঁর রাজনৈতিক ভাবনায় উন্নয়নকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে বলে ঘনিষ্ঠজনরা মনে করেন।
শিল্পোদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ভূমিকা:
পৈতৃক ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে কাপড় উৎপাদন ও প্রসেসিং শিল্পে সফলতা অর্জন করেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা মাধবদীর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত তিনি।
মানবিক উদ্যোগে অগ্রগামী:
২০০১ সাল থেকে পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত “হাজী আমিন উদ্দিন ফাউন্ডেশন”-এর মাধ্যমে নিয়মিত মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মর্নিংসান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, যেখানে বর্তমানে ১৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত “হৃদয়ে বাংলাদেশ” কর্মসূচির মাধ্যমে ঝরে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দড়িকান্দী ঈদগাহ কমপ্লেক্স হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, যেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা:
পরিচ্ছন্ন ইমেজ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে অবদান এবং শিক্ষাবান্ধব মানবিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মো. মফিজুল ইসলাম মাধবদী পৌরসভার একজন সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করে মাধবদীবাসীর সেবা করতে চান বলে জানিয়েছেন।