মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
মনিরুজ্জামান,নরসিংদী:নরসিংদীর মাধবদী পৌর শহরের কতিপয় ব্যক্তির দ্বারা পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের লাগাতার হুমকি, হয়রানি ও বৈষম্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মাধবদী পৌর শহরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলো। এই জুলুম ও অত্যাচার থেকে পরিত্রাণের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে মাধবদী পোস্ট অফিস মোড়ে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে মাধবী পৌরসভার পাশ্ববর্তী গ্রামের কয়েক শতাধিক সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো নিচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শহরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। সামান্য কারণেই গ্রামবাসীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে, শহরে পা রাখলে তাদের ‘দেখে নেওয়া হবে’। অথচ মাধবদী শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কলকারখানায় পার্শ্ববর্তী ৮ থেকে ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তার হোসেন বলেন,”আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। মাধবদী শহর সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত, কিন্তু কিছু ব্যক্তি এটাকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে আমাদের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। আমরা এই অপসংস্কৃতির অবসান চাই।”
অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, বানিয়াদী গ্রামের ফারুক, গাজীরগাঁও গ্রামের শাহ আলম, দাইড়েরপাড় গ্রামের গোলজার, দরগাকান্দা গ্রামের ইব্রাহিম, বিলপাড় হোসেন বাজার গ্রামের শামীম, চৌদ্দপাইকা গ্রামের হানিফ বাবু প্রমূখ। তারা অভিযোগ করেন যে, তুচ্ছ ঘটনায় গ্রামবাসীদের হেনস্তা করা এবং মিথ্যা মামলা বা হামলার ভয় দেখানো এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বানিয়াদীরং ফারুক ও গাজীরগাঁওয়ের শাহ আলম বলেন, এই বৈষম্য কেবল সামাজিক নয়, বরং পেশাগত ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে, যার ফলে সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিক্ষোভকারীরা তাদের অধিকার রক্ষায় এবং এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগে মাধবদীর এই ভ্রাতৃঘাতী পরিবেশের অবসান ঘটবে।
পার্শ্ববর্তী প্রায় দশটি গ্রাম থেকে আসা কয়েকশ ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এসময় স্লোগান দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।