রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
মনিরুজ্জামান,নরসিংদীঃ নরসিংদীতে অনিয়ম,দুর্নীতি ও নারী কেলেংকারীর দায়ে বরখাস্ত হওয়া সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেনকে পুনর্বহাল চেষ্টার প্রতিবাদে কলেজ ক্যাম্পাসে তালা দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি পুনর্বহালের চেষ্টায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এক শতাব্দীরও অধিক সময় ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য রেখে আসছে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যে যেন কালো মেঘের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া।
শতবর্ষের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠটি দীর্ঘকাল ধরে অত্র অঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে কাজ করলেও দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের কারণে আজ তা তালাবদ্ধ করে রেখেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ মদদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই কলেজে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চালিয়েছেন দুর্নীতির রামরাজত্ব। সাধারণ তহবিল থেকে কোটি টাকা আত্মসাৎসহ শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের নামে প্রায় অর্ধ-কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন নারী কেলেংকারী সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে।
প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দমাতে অধ্যক্ষের হাতিয়ার ছিল বেতন-ভাতা বন্ধ এবং নানামুখী হয়রানি। এমনকি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বৈঠকের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর টানা দেড় বছর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে বেরিয়ে আসে পাহাড়সম দুর্নীতির চিত্র। বিভাগীয় তদন্তে সত্যতা মেলায় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তবে সম্প্রতি নিজেকে বিএনপির সমর্থক দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় স্বপদে ফেরার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন তিনি।
অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াতের এই বিতর্কিত পুনর্বহাল বাতিল করতে বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া সহ একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেও কোন প্রতিকার পায়নি স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা। বহিরাগত সন্ত্রাসী ও নারী দিয়ে কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইতোমধ্যেই তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
একজন দুর্নীতিবাজ এবং সুবিধাবাদী ব্যক্তিকে কোনোভাবেই এই পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করে স্থানীয় সচেতন মহল।
” এই বিতর্কিত অধ্যক্ষ মাদকাসক্ত নারীদের ব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে অবিলম্বে নূর শাখাওয়াতের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।